এক পাশে কর্দমাক্ত মাঠ, অন্য পাশে জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবন। আর তার পাশেই কোনোভাবে দাঁড় করানো টিনশেডের তিন কক্ষের ঘর। সেই ঘরেই চলছে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণির ৯৫ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা। বৃষ্টি হলে মাঠ তলিয়ে যায়, গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে টেকা দায়। এমনই দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে বাগেরহাট সদর উপজেলার ভট্ট প্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির পুরোনো ভবনটি ২০২২ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর নতুন ভবন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে টিনশেডের তিন কক্ষের একটি ঘরে শুরু হয় পাঠদান। তবে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে যায়। অনেক সময় পানি ঢুকে পড়ে বিদ্যালয় চত্বরে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী দিয়া বলেন, “আমাগো স্কুলে আসতি মেলা কষ্ট হয়। মাঠে পানি থাকে, গরমও মেলা। ঝড়-বৃষ্টি হলে স্কুলে আসতে মন চায় না। টিন ভাইঙ্গে পড়ারও ভয় হয়। অন্য স্কুল কত সুন্দর, আমাগো স্কুলটা অনেক পচা। আমরা একটা ভালো স্কুল চাই।”
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিমু বলেন, “আমরা চাই আমাদের স্কুলটা নতুন হোক। স্কুলটা ভাঙাচোরা, বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। গরমের সময় কারেন্ট থাকে না। আমাগো মেলা কষ্ট হয়।”
অভিভাবক সুমাইয়া আক্তার বলেন, “স্কুলের এমন অবস্থা যে আমার বাচ্চা স্কুলে আসতেই চায় না। অনেকটা জোর করেই নিয়ে আসতে হয়। টিনের ঘরে প্রচণ্ড গরম, তার ওপর বিদ্যুৎ থাকে না। স্কুলে প্রবেশ করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আমরা চাই দ্রুত একটি ভালো ভবন করা হোক।
অভিভাবক অঙ্কিতা রায় বলেন, “বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে আসতে আমাদেরও অনেক কষ্ট হয়। বসার কোনো জায়গা নেই। মাঠেও পানি থাকে। আমরা চাই ভালো একটা ভবন হোক এবং মাঠটাও সংস্কার করা হোক, যাতে ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করতে পারে।
সহকারী শিক্ষক জেসমিন নাহার বলেন, “অবকাঠামোগত সংকটের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীরা স্কুলে অনুপস্থিত হচ্ছে। আমরা বিভিন্নভাবে অভিভাবকদের বুঝিয়ে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আমাদের লাইব্রেরির অনেক মালামাল নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে অফিসের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। সেখানেও অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহাম্মদ পাইক বলেন, “বিদ্যালয়টি ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০২২ সালে পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ৯৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে টিনশেডের তিন কক্ষের একটি ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী থাকলেও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে ভবন ও মাঠের কারণে আমরা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত একটি ভালো ভবন ও খেলার মাঠ সংস্কারের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। আমাদের শিক্ষক ও কোন সংকট নেই শুধু সংকটে ভবনের আমরা বাধ্য হয়ে জরাজীর্ণ ভবনে কক্ষ তৈরি করেছি সেখানে আমরা মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সব সময় থাকতে হয় উপর থেকে মাঝেমধ্যে পলিস্তরা খুলে পড়ে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে দূরত্বই আমাদের একটি ভবন প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি হাসিবুর রহমান বলেন, “আমি যখন সভাপতি ছিলাম, তখনই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছিল, ভিম ভেঙে পড়ার অবস্থায় ছিল। আমরা লিখিতভাবে আবেদন করার পর শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এসে ভবনটি পরিদর্শন করে ২০২২ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কিন্তু ব্যবস্থা না পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এখনো পর্যন্ত কোন বিকল্প ব্যবস্থা হয়নি করা হয়নি। পরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে আমরা ব্যক্তিগত অর্থে টিনশেডের তিন কক্ষের একটি ঘর তৈরি করি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়টিকে আধুনিক ভবনে রূপান্তর করা হোক এবং মাঠটি সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার উপযোগী করা হোক। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, “যে সকল বিদ্যালয়গুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করেছেন।”
খুলনা গেজেট/এনএম

